এক্স-রে (X-Ray) কী ও কেন করা হয়?

মানবদেহের হাড় ও অভ্যন্তরীণ কাঠামোর চিত্র ধারণের প্রাথমিক ও যুগান্তকারী প্রযুক্তি

এক্স-রে আসলে কী?

X-Ray হলো এক ধরনের উচ্চ শক্তি সম্পন্ন অদৃশ্য তড়িৎচৌম্বকীয় বিকিরণ
(Electromagnetic Radiation)। ১৮৯৫ সালে বিজ্ঞানী উইলহেম
রন্টজেন এটি আবিষ্কার করেন। এই রশ্মি মানুষের ত্বক বা পেশী ভেদ করে
সহজে চলাচল করতে পারলেও হাড় ভেদ করতে পারে না।

যেহেতু ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ শক্ত হাড় এক্স-রে রশ্মিকে সম্পূর্ণভাবে শোষণ বা
বাধা প্রদান করে, তাই এক্স-রে ফিল্ম বা ডিজিটাল সেন্সরে হাড়ের
অংশগুলো উজ্জ্বল সাদা দেখায় এবং বাতাস বা নরম পেশীর অংশগুলো
কালো দেখায়, যা রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করে।

চিকিৎসকরা কেন এক্স-রে করতে বলেন?

হাড়ের ভাঙন ও রোগ

যেকোনো দুর্ঘটনায় হাড়ের ফাটল (Fracture) বা ভাঙন দেখতে, জয়েন্ট বা গিঁটের বিচ্যুতি (Dislocation) এবং আর্থ্রাইটিস বা হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগ শনাক্ত করতে এটি প্রধান মাধ্যম।

বুকের ইনফেকশন ও হার্ট

ফুসফুসের নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা (TB), ক্যান্সার বা বুকে তরল জমা এবং হৃদযন্ত্রের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি (Cardiomegaly) দ্রুত যাচাই করতে বুকে বা Chest X-Ray করা হয়।

দাঁত ও পেটের ফরেন বডি

দাঁতের গোড়ার ইনফেকশন বা ক্যাভিটি নিরূপণে (Dental X-Ray/OPG) এবং দুর্ঘটনাবশত কোনো শিশু মেটাল বা পয়সা গিলে ফেললে তার অবস্থান শনাক্ত করতে এটি অত্যন্ত উপযোগী।

পরীক্ষার পূর্বে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি

ধাতব অলংকার ও জিনিসপত্র বর্জন

শরীরে কোনো মেটাল চেইন, আংটি, চশমা বা ধাতব বোতামযুক্ত পোশাক থাকলে তা এক্স-রে রশ্মির গতিপথ আটকে স্পষ্ট চিত্র ধারণে বাধা দেয়। তাই পরীক্ষার পূর্বে এগুলো খুলে ফেলতে হবে।

গর্ভকালীন অবস্থার বিষয়ে সতর্কতা

এক্স-রে রশ্মিতে সামান্য পরিমাণ তেজস্ক্রিয়তা থাকায় এটি গর্ভস্থ শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আপনি যদি গর্ভবতী হন বা গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে, তবে অবশ্যই চিকিৎসক ও টেকনোলজিস্টকে আগে জানান।

সাধারণ এক্স-রেতে উপবাসের প্রয়োজন নেই

হাত, পাবা বুকের সাধারণ এক্স-রে এর জন্য খালি পেটে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে বিশেষ ধরনের কনট্রাস্ট এক্স-রে (যেমন Barium Swallow বা IVU) পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট সময় খালি পেটে থাকতে হয়।

ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান

পরীক্ষার সুবিধার্থে সহজেই উন্মুক্ত করা যায় এমন চিলেঢালা পোশাক পরিধান করা উত্তম। অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতাল থেকে একটি সাধারণ কটন গাউন পরিধান করতে দেওয়া হতে পারে।

বাংলাদেশে এক্স-রে পরীক্ষার আনুমানিক খরচ

পরীক্ষার বিবরণ (Test Name) সরকারি হাসপাতাল বেসরকারি ডায়াগনস্টিক
Chest X-Ray (বুকের এক্স-রে - Single View) ৳২০০ - ৳৩০০ ৳৫০০ - ৳৮০০
X-Ray of Joint / Bone (হাত, পা বা মেরুদণ্ড) ৳৩০০ - ৳৫০০ ৳৬০০ - ৳১,০০০
Dental OPG (সম্পূর্ণ চোয়াল ও দাঁত) ৳১৫০ - ৳৩০০ ৳৪০০ - ৳৬০০
Contrast Studies (IVU / Barium Swallow) ৳১,০০০ - ৳১, ৫০০ ৳৩,০০০ - ৳৫,০০০

এক্স-রে কীভাবে কাজ করে এবং কত সময় লাগে?

১ - ২

মিনিট সময় লাগে (Procedure Time)

পরীক্ষাটি যেভাবে কাজ করে:
এক্স-রে হলো আলোর মতোই এক ধরণের অদৃশ্য শক্তি যা শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে হাড় ও ভেতরের অঙ্গের ছবি তোলে। এর ফলে শরীর না কেটেই বা কোনো সুই না ফুটিয়েই হাড়ের ফাটল বা ফুসফুসের সমস্যা সহজে দেখা যায়।

 

খুবই দ্রুত পরীক্ষা:
এক্স-রে করতে মূলত মাত্র ১ থেকে ২ মিনিট সময় লাগে।

 

আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা:
বর্তমানে আধুনিক ডিজিটাল (DR) এক্স-রে ব্যবহারের ফলে রেডিয়েশন বা তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা অনেক কমে এসেছে। এটি অত্যন্ত দ্রুত, নিরাপদ এবং নির্ভুলভাবে রোগ শনাক্ত করতে সাহায্য করে।

আপনার কি কোনো জিজ্ঞাসা আছে?

এক্স-রে অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু অতি প্রয়োজনীয় রোগ নির্ণয়কারী পরীক্ষা। অপ্রয়োজনীয় এক্স-রে এড়িয়ে
চলুন এবং যেকোনো সিদ্ধান্ত বা গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ গ্রহণ করুন।

Need help? Chat with us!