ইইজি (EEG) কী ও কেন করা হয়?

মস্তিষ্কের কোটি কোটি নিউরনের বৈদ্যুতিক তরঙ্গ ট্র্যাকিং ও জটিলতা নির্ণয়ের আধুনিক মেডিকেল বিজ্ঞান

ইইজি আসলে কী?

EEG বা Electroencephalogram হলো একটি অত্যন্ত সাধারণ এবং
ব্যথামুক্ত পরীক্ষা। আমাদের মস্তিষ্কের কোষগুলো (Neurons) একে
অপরের সাথে যোগাযোগের জন্য যে ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি করে,
মাথার ত্বকে ছোট ধাতব ডিস্ক বা ইলেক্ট্রোড বসিয়ে তা রেকর্ড করা হয়।

এই সংকেতগুলো পরবর্তীতে একটি কম্পিউটারে চলমান তরঙ্গের ন্যায়
গ্রাফের চিত্রে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। একে সাধারণত ‘ব্রেইন ওয়েভ’ বা
মস্তিষ্কের তরঙ্গ বলা হয়, যা দেখে নিউরোলজিস্টরা ব্রেইনের যেকোনো
অসঙ্গতি বিশ্লেষণ করতে পারেন।

চিকিৎসকরা কেন ইইজি করতে বলেন?

মৃগী ও খিঁচুনি রোগ

মৃগী রোগ (Epilepsy) সনাক্তকরণ এবং আকস্মিক খিঁচুনি বা সেজারের সঠিক ধরন ও মূল উৎস ব্রেনের ঠিক কোন অংশে অবস্থিত তা নির্ণয় করতে ইইজি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

ঘুমের নানা জটিলতা

অনিদ্রা (Insomnia), ঘুমের ঘোরে হেঁটে বেড়ানো (Somnambulism) বা ঘুমের মধ্যে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া (Sleep Apnea)-র মতো স্লিপ ডিসঅর্ডারগুলোর কারণ বিশ্লেষণে এটি করা হয়।

্মৃতিভ্রম ও মস্তিষ্কের ইনজুরি

হঠাৎ মারাত্মক কনফিউশন বা বিভ্রান্তি (Encephalopathy), তীব্র স্মৃতিত্রম (Dementia) এবং স্ট্রোক বা মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে ব্রেনের বৈদ্যুতিক অস্বাভাবিকতা পরীক্ষা করতে ইইজি সাহায্য করে।

পরীক্ষার পূর্বে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি

চুল সম্পূর্ণ পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখা

পরীক্ষার আগের দিন বা সেদিন সকালে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। চুলে কোনো প্রকার তেল, জেল, স্প্রে বা কন্ডিশনার ব্যবহার করা যাবে না; এতে ইলেক্ট্রোডের সিগন্যাল বাধাগ্রস্ত হয়।

ক্যাফেইন বা চা-কফি বর্জন করা

পরীক্ষার অন্তত ৮ ঘণ্টা আগে চা, কফি, চকলেট, কোলা বা এনার্জি ড্রিংকস গ্রহণ করা বন্ধ রাখতে হবে। ক্যাফেইন মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক তরঙ্গ সাময়িকভাবে পরিবর্তন করে ভুল রিডিং দিতে পারে।

ঘুমের বিশেষ নির্দেশনা (Sleep Deprived EEG)

অনেক সময় ঘুমের মধ্যে ইইজি করার প্রয়োজন হয়। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসক রোগীকে আগের রাতে কম ঘুমাতে বা সম্পূর্ণ জেগে থাকতে বলতে পারেন, যাতে পরীক্ষার সময় রোগী সহজে প্রাকৃতিকভাবে ঘুমিয়ে পড়েন।

নিয়মিত ওষুধ সেবন সম্পর্কে ডাক্তারের পরামর্শ

খিচুনি বা স্নায়ুর কোনো ওষুধ নিয়মিত চললে তা পরীক্ষার দিন সেবন করা যাবে কিনা তা আগে থেকেই ডাক্তার বা টেকনোলজিস্টের সাথে কথা বলে নিশ্চিত করে নেওয়া জরুরি।

বাংলাদেশে ইইজি পরীক্ষার আনুমানিক খরচ

পরীক্ষার বিবরণ (Test Name) সরকারি হাসপাতাল বেসরকারি ডায়াগনস্টিক
Routine EEG (সাধারণ ২০-৩০ মিনিট) ৳৫০০ - ৳১,০০০ ৳১,৫০০ - ৳২,৫০০
Sleep Deprived EEG (ঘুমহীন বা বিশেষ ইইজি) ৳৫০০ - ৳৮০০ ৳২,০০০ - ৳৩,০০০
Video EEG (১ ঘণ্টা থেকে দীর্ঘমেয়াদী) ৳১,৫০০ - ৳৩,০০০ ৳৫,০০০ - ৳৬,০০০
Anesthesia Charges (প্রয়োজনে অবশকরণ চার্জ) ৳৫০০ - ৳১,০০০ ৳১,৫০০ - ৳২,৫০০

মস্তিষ্কের তরঙ্গ ও ফ্রিকোয়েন্সি গণনা

০.৫ - ৩০

স্বাভাবিক মস্তিষ্কের তরঙ্গের কম্পাঙ্ক (Hz)

মস্তিষ্কের তরঙ্গ (Brain Waves) কীভাবে কাজ করে?

আমাদের মস্তিষ্ক কখনোই পুরোপুরি থেমে থাকে না। আমরা যখন জেগে থাকি, চিন্তা করি কিংবা ঘুমাই—মস্তিষ্কের কোষগুলো প্রতিনিয়ত নিজস্ব প্রাকৃতিকভাবে তৈরি করা বৈদ্যুতিক সিগন্যাল বা ‘ব্রেন ওয়েভ’ উৎপন্ন করতে থাকে।

  • জেগে বা কর্মব্যস্ত থাকা অবস্থায়: মস্তিষ্কের তরঙ্গের গতি থাকে অনেক দ্রুত (বিটা ওয়েভ)।

  • গভীর ঘুমের সময়: এই তরঙ্গের গতি একেবারেই ধীর ও শান্ত হয়ে যায় (ডেল্টা ওয়েভ)।

১০০% নিরাপদ ও ব্যথামুক্ত পরীক্ষা ইইজি (EEG) পরীক্ষায় আপনার শরীরে কোনো প্রকার বিদ্যুৎ প্রবাহ করা হয় না। এটি অত্যন্ত নিরাপদ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন একটি প্রক্রিয়া, যা শুধুমাত্র আপনার মস্তিষ্কের স্বাভাবিক তরঙ্গের গতি মেপে স্নায়ুর সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে নিউরোলজিস্টদের সাহায্য করে।

আপনার কি কোনো জিজ্ঞাসা আছে?

ইইজি একটি অত্যন্ত নিরাপদ ও বেদনাদায়ক নয় এমন পরীক্ষা, যাতে শরীরে কোনো বিদ্যুৎ প্রবাহ করা হয়
না; বরং ব্রেনের নিজস্ব বিদ্যুৎ তরঙ্গ মাপা হয়। কোনো দ্বিধা বা ভীতি ছাড়াই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী
পরীক্ষা সম্পন্ন করুন।

Need help? Chat with us!