এনসিএস ও ইএমজি (NCS & EMG) কী ও কেন করা হয়?

স্নায়ু ও মাংসপেশির কার্যক্ষমতা এবং ইলেকট্রোডায়াগনস্টিক মূল্যায়নের বিশেষ প্রযুক্তি

NCS & EMG আসলে কী?

Nerve Conduction Study (NCS) হলো স্নায়ুর মধ্য দিয়ে বৈদ্যুতিক সংকেত কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রবাহিত হচ্ছে তা পরিমাপের পরীক্ষা। মৃদু বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা ব্যবহার করে স্নায়ুর গতি ও সংকেতের শক্তি পর্যবেক্ষণ করা হয়।

Electromyography (EMG) মূলত মাংসপেশির বৈদ্যুতিক ক্রিয়াকলাপ পরীক্ষা করে। এতে একটি সূক্ষ্ম নিডেল বা সূঁচ ইলেকট্রোড পেশিতে প্রবেশ করিয়ে বিশ্রামে ও সক্রিয় অবস্থায় পেশির কার্যক্ষমতা রেকর্ড করা হয়।

ডাক্তাররা কেন NCS & EMG করতে বলেন?

স্নায়ুতে চাপ ও কার্পাল টানেল

হাতে বা পায়ে ঝিনঝিন করা, অবশ ভাব এবং কার্পাল টানেল সিন্ড্রোম (CTS) বা নার্ভ কম্প্রেশন সঠিকভাবে শনাক্ত করতে।

নিউরোপ্যাথি ও নার্ভের ক্ষতি

ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি, রেডিকুলোপ্যাথি (মেরুদণ্ডের নার্ভে চাপ) বা কোনো আঘাতজনিত কারণে স্নায়ুর ক্ষতি মূল্যায়ন করতে।

মাংসপেশির দুর্বলতা ও রোগ

মায়োপ্যাথি, পেশির ক্ষয় রোগ, মোটর নিউরন ডিজিজ (ALS) অথবা মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিসের মতো জটিল রোগ শনাক্তে।

পরীক্ষার পূর্বে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি

ত্বকে লোশন বা তেল ব্যবহার করবেন না

পরীক্ষার দিন শরীরে বা হাত-পায়ে কোনো প্রকার লোশন, ক্রিম বা তেল মাখবেন না, কারণ এটি ইলেকট্রোডের স্পর্শে বাধা সৃষ্টি করে।

ঢিলেঢালা ও আরামদায়ক পোশাক পরিধান

সহজে হাত ও পা উন্মুক্ত করা যায় এমন পোশাক পরুন যাতে পরীক্ষাটি সহজে সম্পন্ন করা

চিকিৎসককে ওষুধের বিবরণ ও পেসমেকার তথ্য দিন

আপনি কোনো রক্ত পাতলা করার ওষুধ (Blood thinners) বা পেসমেকার ব্যবহার করলে আগেই জানান।

পূর্বের র্মেডিকেল রিপোর্ট সাথে রাখুন

আপনার আগের এক্স-রে, এমআরআই বা পূর্ববর্তী স্নায়ু পরীক্ষার সমস্ত রিপোর্ট সাথে আনুন।

বাংলাদেশে NCS & EMG পরীক্ষার আনুমানিক খরচ

পরীক্ষার বিবরণ (Test Name) সরকারি হাসপাতাল বেসরকারি ডায়াগনস্টিক
NCS / NCV (এক অঙ্গ / Limb) ৳ ৫০০ - ৳ ১,০০০ ৳ ২,৫০০ - ৳ ৩,৫০০
NCS / NCV (দুই বা চার অঙ্গ) ৳ ১,০০০ - ৳ ২,০০০ ৳ ৫,০০০ - ৳ ৭,০০০
EMG Test (এক অঙ্গ) ৳ ৫০০ - ৳ ১,০০০ ৳ ২,৫০০ - ৳ ৩,৫০০
EMG + NCS (যৌথ পরীক্ষা) ৳ ১,৫০০ - ৳ ৩,০০০ ৳ ৬,০০০ - ৳ ১০,০০০

রোগ নির্ণয়ের সর্বোচ্চ নির্ভুলতা ও নির্ভরযোগ্যতা

৯৫%

স্নায়ু ও মাংসপেশির রোগ শনাক্তকরণের নির্ভুলতার হার

এনসিএস ও ইএমজি (Nerve Conduction Study & Electromyography) পরীক্ষার অত্যাধুনিক ইলেকট্রোডায়াগনস্টিক প্রযুক্তির সাহায্যে স্নায়ুর সংকেত পরিবহন এবং পেশির ক্রিয়াশীলতা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পরিমাপ করা হয়। এতে স্নায়ুর ক্ষয় বা চাপ পড়ার সঠিক স্থান দ্রুত ও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা যায়

 

  • ৯৫% পর্যন্ত নির্ভুলতা: উন্নত কম্পিউটারাইজড সেন্সর এবং নির্ভুল সিগন্যাল অ্যানালাইসিসের কারণে স্নায়ু ক্ষতি ও পেশির রোগ নির্ণয়ে সাফল্যের হার প্রায় ৯৫%

  • নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়ন: শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ু ও মাংসপেশির কার্যকারিতা কোনো প্রকার বড় ঝুঁকি ছাড়াই নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা সম্ভব হয়

  • স্বল্প সময় ও দ্রুত ফলাফল: পুরো পরীক্ষাটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করা হয় এবং সাধারণত খুব দ্রুতই নির্ভুল রিপোর্ট পাওয়া যায়

আপনার কি কোনো জিজ্ঞাসা আছে?

এনসিএস ও ইএমজি (NCS & EMG) একটি অত্যন্ত নিরাপদ, কার্যকর ও অনাক্রমণাত্মক (Non-invasive) পরীক্ষা, যা কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই স্নায়ুর ক্ষতি এবং মাংসপেশির কার্যক্ষমতা নির্ভুলভাবে পরিমাপ করে। কোনো সংশয় ছাড়াই আপনার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

Need help? Chat with us!