জরায়ুমুখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয়তা, পূর্বপ্রস্তুতি, প্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশে আনুমানিক খরচের চিত্র বিবরণী
কলোপোস্কপি হলো জরায়ুমুখ (Cervix), যোনিপথ ও বাইরের অঙ্গ সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করার একটি বিশেষ পদ্ধতি। এতে ‘কলোপোস্কোপ’ নামক একটি বিশেষ আতসকাচ বা বাইনোকুলার দৃশ্যমান যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
এটি সাধারণ প্যাপ স্মিয়ার (Pap Smear) বা ভায়া (VIA) পরীক্ষার চেয়ে অনেক বেশি নিখুঁত তথ্য দেয়। এটি একটি নন-ইনভেসিভ, সম্পূর্ণ ক্ষতিকর বিকিরণমুক্ত ও অত্যন্ত নিরাপদ পর্যবেক্ষণ পরীক্ষা।
প্রাথমিক স্ক্রিনিং পরীক্ষা যেমন VIA বা Pap Smear রিপোর্টে অস্বাভাবিক কোষের উপস্থিতি বা পজিটিভ ফলাফল পাওয়া গেলে বিস্তারিত নিশ্চিত হতে করা হয়।
জরায়ুমুখে প্রদাহ, লালচে ভাব, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা দীর্ঘস্থায়ী ঘা/ক্ষত দেখা দিলে তার সঠিক কারণ ও তীব্রতা শনাক্ত করতে চিকিৎসকরা এটি পরামর্শ দেন।
এইচপিভি (HPV) ভাইরাসের ইনফেকশন থাকলে জরায়ুমুখের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কিনা তা প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত ও প্রতিরোধে সাহায্য করে।
পিরিয়ড বা মাসিকের সময়ে এই পরীক্ষা করা যায় না। মাসিক শেষ হওয়ার অন্তত ২-৩ দিন পর পরীক্ষা করানো উত্তম।
পরীক্ষার পূর্বে অন্তত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা যৌনমিলন, ভ্যাজাইনাল ক্রিম, মেডিকেটেড সাপোজিটরি বা ড্যাশ ব্যবহার বন্ধ রাখুন।
আপনি গর্ভবতী হলে বা নিয়মিত কোনো রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করলে তা আগেই চিকিৎসককে জানান।
আপনার পূর্ববর্তী সকল মেডিকেল রিপোর্ট, বিশেষ করে সাম্প্রতিক প্যাপ স্মিয়ার বা ভায়া (VIA) টেস্ট রিপোর্ট সাথে রাখুন।
| পরীক্ষার বিবরণ (Test Name) | সরকারি হাসপাতাল | বেসরকারি ডায়াগনস্টিক |
|---|---|---|
| কলোপোস্কপি পরীক্ষা (Colposcopy Test) | ৳ ৩০০ - ৳ ১,০০০ | ৳ ২,০০০ - ৳ ৪,৫০০ |
| কলোপোস্কপি + বায়োপসি (Colposcopy with Biopsy) | ৳ ১,০০০ - ৳ ২,০০০ | ৳ ৪,০০০ - ৳ ৭,০০০ |
| বায়োপসি হিস্টোপ্যাথলজি (Biopsy Histopathology) | ৳ ৫০০ - ৳ ১,২০০ | ৳ ১,৮০০ - ৳ ৩,৫০০ |
* উল্লেখ্য: হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মান, বায়োপসির সংখ্যা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ফি ভেদে খরচের কিছুটা তারতম্য হতে পারে।
কলোপোস্কপি (Colposcopy) পরীক্ষার ম্যাগনিফায়িং লেন্স প্রযুক্তির সাহায্যে কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই জরায়ুমুখ (Cervix), যোনিপথ ও জরায়ুর অভ্যন্তরীণ যেকোনো সমস্যা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হয়। এতে কোনো অস্ত্রোপচার বা জটিলতা ছাড়াই জরায়ুমুখের অস্বাভাবিক কোষ ও পরিবর্তন দ্রুত ও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা যায়।
৯৫% পর্যন্ত নির্ভুলতা: আধুনিক হাই-ডেফিনিশন কলোপোস্কোপ বাইনোকুলার প্রযুক্তির কারণে এই পরীক্ষায় জরায়ুমুখের প্রাক-ক্যান্সারাস কোষ (Pre-cancerous lesions), ক্ষত বা ইনফেকশনের সঠিক মাত্রা নির্ণয়ের সাফল্যের হার প্রায় ৯৫%।
সম্পূর্ণ ব্যথাহীন ও রক্তপাতহীন: কোনো প্রকার কাটা-ছেঁড়া বা রক্তপাত ছাড়াই তরল দ্রবণ (যেমন অ্যাসিটিক অ্যাসিড) ব্যবহার করে জরায়ুমুখের টিস্যুর অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়, ফলে তেমন কোনো ঝুঁকি থাকে না।
মাত্র ১০-১৫ মিনিটের স্বল্প সময়: পুরো পরীক্ষাটি অত্যন্ত দ্রুত এবং সাধারণত ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যায়।
কলোপোস্কপি (Colposcopy) একটি অত্যন্ত নিরাপদ, ব্যথাহীন ও অনাক্রমণাত্মক (Non-invasive) প্রযুক্তি, যা কোনো কাটা-ছেঁড়া বা রক্তপাত ছাড়াই জরায়ুমুখের (Cervix) অভ্যন্তরীণ অবস্থা, যোনিপথ ও জরায়ুর যেকোনো অস্বাভাবিকতা সূক্ষ্ম ও সঠিকভাবে নির্ণয় করে।