ইসিজি (ECG) কী ও কেন করা হয়?

হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ পরিমাপ ও রিদম ট্রেসিংয়ের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রযুক্তি

ইসিজি (ECG) আসলে কী?

ECG বা Electrocardiogram হলো একটি অত্যন্ত সাধারণ এবং
বেদনাদায়ক নয় এমন পরীক্ষা, যা হৃদপিণ্ডের প্রতিটি সংকোচনের সময়
উৎপন্ন হওয়া অত্যন্ত ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক সংকেতগুলোকে শরীরের ত্বকে
ইলেক্ট্রোড লাগিয়ে ক্যাপচার ও রেকর্ড করে।

এই পরীক্ষার মাধ্যমে হৃদস্পন্দনের গতি (Heart Rate) এবং এর ছন্দ বা
রিদম (Heart Rhythm) একটি চলমান তরঙ্গের ন্যায় গ্রাফের চিত্রে
নিখুঁতভাবেফুটিয়ে তোলা হয়, যা দেখে চিকিৎসকরা দ্রুত হাটের যেকোনো
ত্রুটি বিশ্লেষণ করেন।

চিকিৎসকরা কেন ইসিজি করতে বলেন?

হার্ট অ্যাটাক ও বুকে ব্যথা

যদি রোগীর বুকে তীব্র ব্যথা (Chest Pain), বাম বাহুতে ব্যথা বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে হাট অ্যাটাক হয়েছে কিনা তা সনাক্তকরণের প্রথম ধাপ হলো ইসিজি করা।

অনিয়মিত হৃদস্পন্দন

বুক ধড়ফড় করা (Palpitations) অথবা হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক দ্রুত (Tachycardia) বা ধীর গতির (Bradycardia) হলে তা অ্যারোমিয়া (Arrhythmia) হিসেবে দ্রুত সনাক্ত করতে সাহায্য করে।

সার্জারি ও পেসমেকার চেক

যেকোনো বড় অপারেশনের পূর্বে হাটের সহনশীলতা ও ফিটনেস পরীক্ষা করতে এবং শরীরে পেসমেকার বসানো রোগীদের ক্ষেত্রে ডিভাইসটি ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা তা ট্র্যাক করতে ইসিজি করা হয়।

পরীক্ষার পূর্বে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি

বুকের লোম পরিষ্কার করা (Shaving)

পুরুষ রোগীদের ক্ষেত্রে বুকে ঘন লোম থাকলে ইলেক্ট্রোড প্যাডগুলো সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে আসতে পারে না। ফলে সঠিক সিগন্যাল পাওয়া কঠিন হয়। তাই প্রয়োজনে বুকের অংশ সামান্য শেভ করতে হতে পারে।

ত্বকে কোনো তেল বা লোশন এড়ানো

পরীক্ষার দিন গোসলের পর বুকে বা হাত-পায়ে কোনো বডি ওয়েল, ময়েশ্চারাইজার বা লোশন ব্যবহার করবেন না। এগুলো ইলেক্ট্রোডের আঠালো প্যাড বসাতে এবং সংকেত গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে।

ধাতব অলংকার ও ঘড়ি সাময়িক খোলা

শরীরের ধাতু যেমন চেইন, ভারী ঘড়ি, আংটি বা বেল্ট ইসিজি মেশিনের বৈদ্যুতিক তরঙ্গে হস্তক্ষেপ বা গোলযোগ তৈরি করতে পারে। তাই এগুলো পরীক্ষার রুমে প্রবেশের সময় খুলে রাখা উত্তম।

পরীক্ষার সময় শান্ত ও শিথিল থাকা

ভয়, উত্তেজনা বা দ্রুত হাঁটার কারণে হৃদস্পন্দন সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে। ইসিজি করার ঠিক আগে ৫-৯০ মিনিটশান্ত হয়ে শুয়ে বা বসে থাকুন এবং পরীক্ষা চলাকালীন একদম শান্ত হয়ে নিঃশ্বাস নিন।

বাংলাদেশে ইসিজি পরীক্ষার আনুমানিক খরচ

পরীক্ষার বিবরণ (Test Name) সরকারি হাসপাতাল বেসরকারি ডায়াগনস্টিক
Resting ECG (১২-লিড সাধারণ ইসিজি) ৳১০০ - ৳২০০ ৳৪০০ - ৳৫০০
Stress ECG / ETT (ব্যায়ামরত অবস্থায় হৃদস্পন্দন) ৳২,৫০০ - ৳৩,০০০ ৳৫,০০০ - ৳৬,০০০
Holter Monitoring (২৪-৭২ ঘণ্টা হৃদস্পন্দন ট্র্যাকিং) ৳১,৫০০ - ৳২,৫০০ ৳৪,৫০০ - ৳৬,০০০

স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন ও হৃদস্পন্দনের মাত্রা

৬০ - ১০০

স্বাভাবিক হৃদস্পন্দন (BPM)

হৃদস্পন্দন ও রক্ত সঞ্চালন কী?

একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের বিশ্রামের সময় প্রতি মিনিটে হৃদস্পন্দন সাধারণত ৬০ থেকে ১০০ বিট (BPM) হয়ে থাকে। ইসিজি পরীক্ষার মাধ্যমে এই হৃদস্পন্দনের গতি এবং ছন্দ ঠিক আছে কিনা তা নির্ণয় করা হয়।

 

সহজ ভাষায় রক্ত পাম্পিং:

আপনার হার্ট প্রতি মিনিটে কতখানি রক্ত পুরো শরীরে পাম্প করছে, তা মূল দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে:

১. প্রতি স্পন্দনে পাম্প করা রক্তের পরিমাণ (Stroke Volume)

২. প্রতি মিনিটে হৃদস্পন্দনের সংখ্যা (Heart Rate)

 

জরুরি তথ্য:

ইসিজি পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ ব্যথামুক্ত এবং এটি সম্পন্ন হতে মাত্র ৩ থেকে ৫ মিনিট সময় লাগে।

আপনার কি কোনো জিজ্ঞাসা আছে?

ইসিজি অত্যন্ত প্রাথমিক কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জীবন রক্ষাকারী পরীক্ষা। বুকে মৃদু অস্বস্তি বা বুক
ধড়ফড়ানিকে গ্যাষ্ট্রিক মনে করে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করুন ও সুস্থ থাকুন।

Need help? Chat with us!