এফএনএসি (FNAC) টেস্ট কী ও কেন?

অঙ্গ বা টিউমারের কোনো অংশ না কেটে কেবল সূক্ষ্ম সূঁচের সাহায্যে কোষের মাইক্রোস্কোপিক বিশ্লেষণ

FNAC টেস্ট আসলে কী?

FNAC হলো Fine Needle Aspiration Cytology-এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
শরীরের বাইরে দৃশ্যমান বা ভেতরে লুকানো কোনো ফোলা অংশ, চাকা বা
টিউমারের ভেতরে একটি ইনজেকশনের চেয়েও অত্যন্ত সূক্ষ্মসূঁচ প্রবেশ
করিয়ে কিছু কোষের রস বা ফ্লুইড সংগ্রহ করা হয়।

সাধারণ বায়োপসি (Biopsy) করার জন্য ক্ষত স্থান কেটে মাংসের বড়
টুকরো নিতে হয়, যা ব্যথাদায়ক এবং অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু
এফএনএসি টেস্টে কোনো প্রকার কাটাছেঁড়ার প্রয়োজন পড়ে না এবং খুব দ্রুত
ও সহজে সামান্য সুই ফুটিয়ে তরল কোষ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।

ডাক্তাররা কেন এই পরীক্ষা করতে বলেন?

থাইরয়েড গ্রন্থির ফোলা

গলার থাইরয়েড গ্রন্থি যদি অস্বাভাবিক বড় হয়ে যায় (Goiter) বা গলার ভেতরে কোনো শক্ত চাকা অনুভূত হয়, তবে সেটি সাধারণ সিস্ট নাকি টিউমার তা শনাক্তকরণে এটি প্রথম ধাপ।

স্তনের চাকা বা ব্রেস্ট লাম্প

নারীদের স্তনে কোনো প্রকার চাকা বা টিউমার (Breast Lump) দেখা দিলে তা কি কেবল সাধারণ পানি ভরা সিস্ট নাকি ক্ষতিকর ক্যান্সার কোষ, তা শতভাগ নিশ্চিত করতে এফএনএসি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।

লসিকাগ্রন্থি বা লিম্ফ নোড

গলা, বগল বা কুঁচকির লিম্ফ নোড (Lymph Node) ফুলে গেলে যক্ষ্মা (TB), সাধারণ ইনফেকশন কিংবা কোনো ক্যান্সারের বিস্তৃতি রয়েছে কিনা তা আণুবীক্ষণিকভাবে যাচাই করতে এটি করা হয়।

পরীক্ষার পূর্বে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি

কোনো প্রকার উপবাসের প্রয়োজন নেই

এফএনএসি পরীক্ষার জন্য খালি পেটে আসার প্রয়োজন হয় না। রোগী স্বাভাবিক খাওয়াদাওয়া এবং পানি পান করে অনায়াসে ল্যাবে আসতে পারেন।

রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবনে সতর্কতা

যদি রোগী অ্যাসপিরিন বা অন্য কোনো রক্ত পাতলা করার নিয়মিত ওষুধ খেয়ে থাকেন, তবে পরীক্ষার ৩-৫ দিন আগে তা বন্ধ রাখা প্রয়োজন হতে পারে। পরীক্ষা শুরুর পূর্বেই টেকনিশিয়ানকে এটি জানান।

অহেতুক ভীতি ও মানসিক চাপ এড়িয়ে চলা

এটি একটি ওপিডি বা বহির্বিভাগের পরীক্ষা। ইনজেকশন দেওয়ার মতো সামান্য সুঁই ফুটানো ছাড়া কোনো গভীর ব্যথা বা অবশ করার প্রয়োজন পড়েনা। তাই সম্পূর্ণ শান্ত ও রিল্যাক্সড থাকা উচিত।

ইউএসজি গাইডেড টেস্টের ক্ষেত্রে আল্ট্রাসাউন্ড

যদি ফোলা অংশটি বাইরে থেকে ছোঁয়া না যায়, তবে আল্ট্রাসাউন্ডের (USG Guidance) সাহায্যে সুঁচের সঠিক অবস্থান দেখে কোষ নেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে পূর্বের ইউএসজি বা এক্স-রে ফিল্ম সাথে রাখুন।

বাংলাদেশে এফএনএসি পরীক্ষার আনুমানিক খরচ

পরীক্ষার বিবরণ (Test Name) সরকারি হাসপাতাল বেসরকারি ডায়াগনস্টিক
Routine FNAC (সাধারণ উপায়ে ফোলা অংশ থেকে) ৳ ৩০০ - ৳ ৫০০ ৳ ১,২০০ - ৳ ১,৮০০
USG Guided FNAC (ইউএসজি নির্দেশনা চার্জসহ) ৳ ৮০০ - ৳ ১,২০০ ৳ ৩,৫০০ - ৳ ৪,৮০০
Special Cytopathology (রিপোর্টিং ও স্লাইড রিডিং) ৳ ২০০ - ৳ ৪০০ ৳ ১,০০০ - ৳ ১,৫০০

নিরাপদ উপায়ে দ্রুততম রোগ শনাক্তকরণ

৯৫%

ক্যান্সার কোষ শনাক্তকরণের নির্ভুলতা

১০-১৫ মিনিটের সহজ প্রক্রিয়া ও সর্বোচ্চ নির্ভুলতা

এফএনএসি (FNAC) টেস্টের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি সময়সাপেক্ষ কোনো বড় সার্জারি বা অপারেশন নয়। রোগীদের জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ, দ্রুত এবং যন্ত্রণাহীনভাবে সম্পন্ন করা হয়:

 

  • দ্রুত ও সহজ নমুনা সংগ্রহ: কোনো প্রকার কাটাছেঁড়া বা অপারেশন ছাড়াই মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে সূক্ষ্ম সুঁইয়ের সাহায্যে আক্রান্ত স্থান থেকে নমুনা নেওয়া হয়।

  • ৯৫% পর্যন্ত নিখুঁত ফলাফল: আধুনিক সাইটোপ্যাথলজি বিশ্লেষণের মাধ্যমে চাকাটি সাধারণ নাকি ক্ষতিকর ক্যান্সার কোষ, তা ৯৫% নির্ভুলতার সাথে শনাক্ত করা সম্ভব।

  • সম্পূর্ণ নিরাপদ ও যন্ত্রণাহীন: পরীক্ষাটির জন্য রোগীকে অবশ করার বা হাসপাতালে ভর্তি থাকার প্রয়োজন হয় না, ফলে ভুল রিপোর্টের ঝুঁকি ছাড়া অত্যন্ত নিরাপদেই রোগ নির্ণয় করা যায়।

আপনার কি কোনো জিজ্ঞাসা আছে?

এফএনএসি কোনো বড় অপারেশন ছাড়াই ফোলা বা চাকার রোগ নির্ণয়ের দ্রুততম ও নিরাপদ সোনালী
মাধ্যম। যেকোনো অস্বাভাবিক ফোলা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করুন ও
নিশ্চিন্ত থাকুন।

Need help? Chat with us!